শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কোটার কাঁটা

সামগ্রিক ভাবে কোটা পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন কিন্তু একেবারেই কোটা পদ্ধতির বাতিলের পক্ষে আমি নই, সঙ্গত কারণেই!

আমদের মতো অর্থনীতিক ভাবে বৈষম্য মূলক দেশ গুলতে শিক্ষার সুযোগ সবার সমান নয় যেখানে শিক্ষা এখন পুর মাত্রাই বাণিজ্যিকযার টাকা আছে সে শিক্ষা কিনে নিতে পারছেনআমাদের গ্রামের স্কুল, উপজেলা এমনকি জেলা গুলতেও ভাল মানের শিক্ষার সুযোগ এখনও কম, তারপর আছে বিভিন্ন পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা, এক কারিকুলামের শিক্ষা জানিনা আমরা আদোও চালু করতে পারবো কিনা
পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী, জনপদের জন কিছু সুবিধা রাখলে ক্ষতি কি আনুপাতিক হার নিয়ে ভাব বার প্রয়োজন রয়েছে

মুক্তিযুদ্ধর বিষয়টা একটু ভিন্নই বটে একটা বিশেষ সম্মান দেখানো, চাইলেই আমাদের আর কোন প্রজন্ম এমন সম্মানের অংশীদার হতে পারবেনা

আর তারা যে একেবারেই মেধাহীন এমনটা বোধহয় ঠিক নয়
দুর্দান্ত মেধাবীদের মেধার পরিচয় তো আমরা পাচ্ছিই অর্থ মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও কতোকি

এর বাইরেও আমাদের আরও অনেক কোটা আছে , ক্ষমতাসীন দলের কোটা, স্বজন প্রীতি কোটা, অর্থ কোটা। 

বাতিল যদি করতেই হয় এগুলো করাই কি বাঞ্ছনীয় নয় ?


১৩ই জুলাই, ২০১৪
ঢাকা। 



শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৩

মুক্তির আকাঙ্ক্ষা

“সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান,
সঙ্কটের কল্পনাতে হোয়ো না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত করো ভয়,
আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়” (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

যে মুক্তি আমরা চেয়েছিলাম আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে এসে আমরা আবার এমন ভাবে একত্রিত হবো ভাবিনি, শাহাবাগের তরুণ বন্ধুদের তাই ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ নামের এই ভূখণ্ডের দিক নিশানা আজ আমাদের ঠিক করা উচিৎ কোনদিকে আমরা যাবো, যে চেতনা নিয়ে আমরা যুদ্ধ করে ছিলাম সেই মুক্ত চেতনার আধুনিক শোষণ মুক্ত সমাজ নাকি চেতনা বিবর্জিত প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ।

আমরা চাই বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল মানেই মুক্তি যুদ্ধের পক্ষের শক্তি, সরকারে যারা থাকবে তারা যেমন মুক্তি যুদ্ধের পক্ষের শক্তি পাশাপাশি বিরোধী দলে যারা থাকবে তারাও মুক্তি যুদ্ধের পক্ষের শক্তি।

আমরা মুক্তি চেয়েছিলাম শোষণ-হীন সমাজ থেকে, মুক্তি ছেয়েছিলাম ধর্ম ভিত্তিক পাকিস্তানি স্বৈর-তান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে। আর এ মুক্তির সংগ্রাম ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক।

যে মীমাংসা আমরা স্বাধীনতার পরে এসে করতে পারিনি সেই মীমাংসা হওয়াটা আজ খুব জরুরি। আর এ মীমাংসা করার জন্য আমাদের অবশই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা বিরোধিতা করেছিল সেই সব যুদ্ধ অপরাধী এবং মানবতা বিরোধী অপরাধীর বিচার করাটা প্রথম কাজ। এবং প্রথম কাজটা প্রথমেই করা উচিৎ।

বাংলাদেশের মানুষ সংকীর্ণ মানসিকতার দাসত্ব থেকে মুক্ত হোক গড়ে তুলক ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বৈষম্যহীন এক আধুনিক দেশ।

তরুণ প্রজন্ম চাইলেই এটা পারে।।




            

              ২৪শে ফেব্রুয়ারী ২০১৩
 

।।প্রতিদিন শাহাবাগ।।

প্রতিদিনের দৈনিন্দন খুঁটিনাটি নিয়ে
নির্বিকার আমিও একাকার হই
মিছিলে,
আবারও, আর একবার সংকতে-অসংকটে নির্মোহ আলোর খোঁজে
আলোকিত হই সময়ে।

সময়ও অদ্ভুত বটে..
নিঃসঙ্গ সময়ে সঙ্গের খোঁজে
প্রতিদিন শাহাবগ।।

              

        ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০১৩ 

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১২

“ক্ষমা করে দিও বিশ্বজিত, তোমাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি “


স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে এসে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে যে আকাঙ্ক্ষা, যে মূল্যবোধ নিয়ে এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছিল তা কি এভাবেই ক্ষতবিক্ষত হবে।
পারসপারিক সহযোগিতা, বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মূল্য বোধ গুলো এতটাই ভোঁতা হবে, সেদিনের সেই জীবন দেওয়া মানুষ গুলো নিশ্চয়ই ভাবেনি।
৪২ বছরে আমরা এগিয়েছে অনেক, রাস্তা–ঘাট, বহুতল ইমারত আর

কতকি শুধু মাত্র টেলিভিশন চ্যানেলই আছে আমাদের ২০ থেকে ২৩ টি সংবাদ পত্র অগণিত, শুধু হারিয়েছি মূল্য বোধ।

বিশ্বজিতের মৃত্যুর ভিডিও দেখতে গিয়ে আমার একটাই প্রশ্ন জাগে, আশেপাশে অনেক মানুষ হয়তো সেখানে ছিলও, টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সাংবাদিক মিলিয়ে ৫০ জনত হবেই। তারা হয়তো একটু চেষ্টা করলেই কি প্রতিবাদ করতে পারতেন না ! অবশ্য সাংবাদিক ভাইদের দায়িত্বত শুধু ছবিই তোলা......।।

কতটা মূল্য দিলে আসলে বোধ গুলো তৈরি হয় জানিনা !!
 

১১ই ডিসেম্বর, ২০১২

সমসাময়িক উপলব্ধি এবং ডঃ আবুল বারাকাত

পুনরায় বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন দিয়েই শুরু করছি। বিগত দিনের পথ পরিক্রমায় আমরা আমরা দেখেছি অর্থনীতির কোনো সংকট, বৈষম্য, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে তিনি হব সময় সরব ছিলেন । তার বিশ্লেষণ ধর্মী তথ্য, উপাত্ত সহ উপস্থাপনে আমাদের অনেক কিছুই দৃষ্টি গোচর হত। বিগত নির্বাচনের সময় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইস্তেহার তৈরির কাজে একজন ছিলেন
পরবর্তীতে তার রেশ ধরে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ পান এবং তারপরেই শেষ।

এরপর বাংলাদেশের জনজীবনে অনেক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ঘটনা দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে যা আমি আর উল্লেখ করে চাইনা কিন্তু এসব নিয়ে তার কোন আলোচনা –সমালোচনা চোখে পড়েনি। এসব ঘটনা তাকে কি এখন আর ভাবায়?

মুক্ত চিন্তার, মুক্ত বুদ্ধির মানুষ গুলো আপোষ-কামী শৃঙ্খলে আবদ্ধ হলে চিন্তা হয়।
 
 
১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১২

ডঃ ইউনুস এবং প্রাশঙ্গিক ভাবনা

দেরিতে হলেও ধন্যবাদ ডঃ ইউনুস কে তাঁর নোবেল বিজয়ের জন্য। কিন্তু আমি আসলে ঐ দলে নই যিনি আদতেই বিশ্বাস করেন যে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। বোধ করি এ কারণেই উচ্ছ্বাসটা কমছিল। প্রত্যেক তত্ত্বেরই কিছু মন্দের ভাল থাকে। আজ যে গ্রামের প্রান্তিক মহিলারা আত্মনির্ভরতার জন্য ধর্মীয় গোঁড়ামি উপেক্ষা করে ঘরের বাইরে এসে সংগ্রাম করছেন তা হয়তো এন, জি্‌, ও গুলোর দীর
্ঘ কাজের মন্দের ভাল।

বাংলাদেশের একটি সাধারণ সমস্যা আইন না মানা, আর আইন ভঙ্গকারী যদি ক্ষমতাবান কেউ হন তাহলে তো আইন ই পরিবর্তন হয়ে যায়। স্কুল জীবনে অনেকেই আমরা ইংরেজি গ্রামার বইতে একটা বাণী পড়ে ছিলাম যে, আইন গরিব মানুষ কে পিষে মারে আর বড়লোক এই আইন তৈরি করে। Laws grind the poor, and rich men rule the law. (Oliver Goldsmith) তাই ক্ষমতাবানরা সবসময়ই একটু আইন অমান্য করে চলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তখন যদি আইন মানার পরামর্শ দেওয়া হয় তা নিশ্চয়ই দোষের কিছু নয়। সে কারণেই সরকার বোধ হয় ডঃ ইউনুসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সোরে দাড়াতে পরামর্শ দেন, যদিও মারা জানি আইন নামান অনেক প্রতিষ্ঠান ই বহাল তবিয়তেই চলছে, কিন্তু প্রথমেই ডঃ ইউনুস কেন? উত্তরটাও আমরা জানি, তাঁর অন এলেভেন এর সময় রাজনৈতিক ভূমিকা, এটা হয়তো সবাই জানেন কিন্তু আমাকে ভাবিত করে অন্য একটি বিষয়, বাংলাদেশের কোন একটি ক্রান্তি কালেও কি ডঃ ইউনুস পাশে দাড়িয়ে ছিলেন ? তাঁর যেকোনো আবিষ্কারের পর তিনি প্রথমেই ছুটে যান বিদেশী ক্ষমতাবানদের কাছে। অদ্ভুত তাঁর এই নীতি। ......।। হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;-
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;-
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে-
``ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি? (মাইকেল মধুসুদন দত্ত)।

২৭শে অগাস্ট, ২০১২

“হোটেল গ্রেভার ইন “

হটা ৎ একদিন বাদল ভাই এর আগমন। আমার বড় খালার বড় ছেলে, কৈশোরে আমি
খুব ভক্ত ছিলাম তার। যথারিতি তার আগমন আমার জন্য একটা আনন্দের বেপার। আমি তখন ক্লাস এইট অথবা নাইনে পড়ি
আর আমার নিজের বড় ভাই তখন কলেজ এ। বেশ সময় কাটছিল আমাদের।

বাদল ভাই যেদিন চোলে যাবেন আমাদের দুই ভাইকে দুটো বই উপহার দিয়ে যান।

স্কুল এ পড়ায় এবং কিঞ্চিৎ কবিতা লেখের চেষ্টা থাকায় আমার ভাজ্ঞে পরে “ছোটদের সুকান্ত” আর ব

ড় ভাই কলেজ এ পড়ায় তার জন্য উপন্যাস, যেটা ছিল হুমায়ন আহামেদের “হোটেল গ্রেভার ইন “। যেটা কিনা বাদল ভাইএর ভাষায় একটু বড়দের বই ,কিন্তু আমার কৌতুহলি মন সুযোগের অপেক্ষায় এবং যথারিতি একদিন নিমাশেই বইটা পড়েফেলি। তারপর আর পিছেফিরে তাকাতে হয়নি একে একে অনেক বই পড়ি হুমায়ন আহামেদ সহ অনাকের, সাহিত্য , অর্থনীতি , রাজনীতি , -----কিন্তু বই পড়ার অভ্যাসটা শুরু হয়েছিল হুমায়ন আহামেদের বই দিয়ে।
ধন্যবাদ হুমায়ন আহামেদ;এখনও অভ্যাস কিছুটা রয়েগেছে।।


২১শে জুলাই, ২০১২